মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
নাজমুল হুদা, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : শরৎ মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। তার সাথে পাল্লা দিচ্ছে কাশফুলের শুভ্রতা। ঋতু বৈচিত্রের এই দেশে শরতের বার্তা দেয় কাশফুল।যদিও দিন দিন সেই বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে।শরতের সৌন্দর্যের বন্দনা করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতায় বলেছেন, “শরৎ তোমার অরুন আলোর অঞ্জলি ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি।
শরৎ তোমার শিশির ধোয়া ধোওয়া কুন্ডলে বনের পথে লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।কবি জীবনানন্দ দাশ শরৎ বন্দনায় লিখেছেন,‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’। জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝে যেন আমাদের অগোচরেই এসেছে শরৎ।স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘ, মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ ও সাদা কাশফুল যখন বাতাসের দোলায় দুলতে থাকে তখন মনটাও যেন আন্দোলিত হয়। প্রকৃতিতে যখন শরৎকাল আসে তখন কাশফুলই জানিয়ে দেয় এর আগমনী বার্তা।
এই ঋতুতে পালকের মতো নরম ও ধবধবে সাদা রঙের কাশফুল ফোটে। কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়।শরত শোভায় প্রকৃতিতে সাজ-সাজ রব। নীল আকাশে চলছে সাদা-কালো মেঘের লুকোচুরি। কখনো কালো মেঘে আবার কখনো সাদা মেঘের আভরণে লুকিয়ে হাসছে সোনালী সূর্য। এভাবেই প্রতি বছর ফিরে আসে শরত, বাংলার প্রকৃতিকে করে তোলে রূপময়।
প্রাকৃতিক সৌন্দযের ভরপুর পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জায়গায় মাথা উচু করে দোল খাচ্ছে শুভ্র সাদা এই কাশফুল। সেখানে প্রকৃতির নিয়মেই যেন তৈরি হয়েছে কাশফুলের বাগান। আর এই নজরকাড়া কাশফুলের হাতছানি মানুষের মনকে ভীষণভাবে কাছে টেনে নিয়ে যায়। এজন্য এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আনাগোনা বাড়ছে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে।ভিড় জমে যায় কাশবনে কিশোর-তরুণসহ সব বয়সী মানুষদের।দর্শনার্থীদের বেশীর ভাগই এসেছেন শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে।
প্রত্যেকেই মোবাইলে ছবি তুলেছেন বিভিন্ন ভঙ্গিতে। কাশফুলের বাতাসে দোল খাওয়ার দৃশ্য যেন মন কাড়বে সবার। কাশফুল দেখতে আসা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী তাজমিম ইবনাত বিভা বলেন,জীবনে বহুবার কাশফুলের ছোঁয়া পেয়েছি। কিন্তু এ যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা ছিল আমাদের সবার কাছে। হঠাৎ এক বিকেলে আমি ও আমার বন্ধু বান্ধবীরা মিলে ক্যাম্পাসের কাশবনে গিয়েছিলাম। অনেকক্ষণ আড্ডা দিয়েছি এবং সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখতে কিছু ছবিও তুলেছি।
তিনি আরো বলেন,আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস শরতের শুভ্রতা ছড়িয়েছে যেন সাদা সাদা কাশফুলের হাতছানিতে। উপরে নীল আকাশে সাদা সাদা মেঘের দল আর নিচে কাশফুলের মেলা, এত মনোরম পরিবেশ, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বিশ্ববিদযালয়ের ব্যাবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আপন বলেন,প্রতিবছর শরৎ আসার সাথে সাথে আমাদের ক্যাম্পাস নতুন সৌন্দর্যে রূপ নেয়, যা মুগ্ধতা ছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ এই পরিবারের সকলের মাঝে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও শরৎ এসেছে।
প্রকৃতিও সেজেছে তার নিজের সাজে। শালগড়িয়া থেকে আসা এক দর্শনার্থী এনামুল হক বলেন,ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে ঘুরি। আজ এসেছি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে।কাশফুল দেখলাম, ছবি তুললাম,সবাই খুব উপভোগ করলাম আজকের এই মনোরণ বিকেল। কাশফুল ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। কাশফুলের মঞ্জুরি দন্ড ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্ব হয়ে থাকে, বীজে সুক্ষ্ম সাদা লুম থাকে। কাশ উদ্ভিদ প্রজাতির, উচ্চতায় তিন মিটার থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। আর শেকড় গুচ্ছমূল থাকে। পাতা রুক্ষ ও সোজা।